বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০১৬

ঢাবি "খ" ইউনিটে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ হয় না যেসব ভুলের কারণে!

পরামর্শ!



ঢাবি তে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার মূল কারণই হলো সচেতনতা এবং স্বচ্ছ ধারণার অভাবহেতু কোচিং এর ফাঁদে পড়ে সময় নষ্ট করা এবং সেইসঙ্গে স্মার্টলি পড়াশুনা করতে না পারা। আর কিছু ছোটো কারণও আছে। সব মিলিয়ে বেশ কিছু কারণ আছে। কারণসমূহ নিম্নরূপ:

১. নিজে ভালো ছাত্র বলে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়া: আমি তো ভালো ছাত্র, আমার চান্স তো হবেই। এই ভেবে পড়াশুনায় সিরিয়াস না হওয়া। তারা এটা বুঝতে পারে না যে ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার মতো নয় যে এখানে অল্প পড়ার মধ্যে থেকে প্রশ্ন কমন আসবে।

২. আগের মতো আরাম আয়েশে দিন কাটানো। কিন্তু ভার্সিটি ভর্তি প্রস্তুতির জন্য দৈনিক ০৮-১০ ঘন্টা পড়াশুনা করতে হবে এবং স্মার্টলি।

৩. স্মার্টলি পড়াশুনা না করা, দৈনিক ০৮ ঘন্টা স্মার্টলি পড়াশুনা করলেই চান্স হবে আর হাদারামের মতো করে দিনে ১৬ ঘন্টা পড়াশুনা করলেও চান্স পাওয়া সম্ভব না। এজন্যই আমি আমার প্রাইভেটের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রথম এক সপ্তাহ ধরে শেখাই কীভাবে স্মার্টলি পড়াশুনা করতে হয়।

৪. কোচিং এর ফাঁদে পড়া: নামী দামী কোচিংয়ে ভর্তি হওয়া, এবং এরূপ ধারণা করা যে আমি তো নামকরা কোচিংয়ে পড়ছি, মনেহয় এরা যা শেখাচ্ছে এই যথেষ্ট। কিন্তু আমি গবেষণা করে দেখেছি এদের ৪০-৪৮ টি শিট আর ইয়া মোটা গাইড বই হতে ঢাবি "খ" ইউনিটে ৩৫-৪০% এর বেশি প্রশ্ন কমন আসে না।

৫. আর একদল পাগল আছে যারা ঢাকায় আসে কোচিং করার জন্য। ঢাকায় কোনো কিছুই অন্য স্থানের চেয়ে বেশি ভালো পড়ানো হয় না; তারা বেশি ফি নেয় কারণ ঢাকায় বিল্ডিং এর ভাড়া ও টিচার খরচ বেশি এই জন্য। ঢাকায় সাধারণ ছাত্রদের জন্য কোনো ভালো কিছু নেই; সায়েন্সের উদ্ভাস ও রেটিনা ছাড়া অন্যসব কোচিং সেন্টারগুলো দুইটি কাজ করে— টাকার বিনিময়ে ভালো ছাত্রদের পরিচয় কিনে নেয় এবং তারা নটরডেম ও অন্যান্য কলেজের কিছু ভালো ছাত্রদের নিয়ে কয়েকটি স্পেশাল ব্যাচ বানিয়ে তাদেরকে আলাদাভাবে অনেক সময় নিয়ে পড়ায় আর এরা ০১ থেকে ৫০০ এর মধ্যে সিরিয়ালে থেকে চান্স পেলে তাদের ছবি বিজ্ঞাপনে দেয়। এভাবে দেশজুড়ে ছাত্রদের মন ভুলিয়ে ভর্তি নেয় কিন্তু ভালো পড়ায় না।
আর এই ছাত্রদের ঢাকার পরিবেশে সেটআপ হতেই একমাস এর মতো সময় ব্যয় হয়ে যায়।

৬. ভালো বই না পড়ে শিট এর বিগত প্রশ্ন মুখস্থ করতে বেশি সময় দেওয়া। বিগত প্রশ্ন দেখে ধারণা নিতে হবে যে কেমন প্রশ্ন হয় কিন্তু এই বিষয়টা ঠিকমতো না বুঝে সময় নষ্ট করে লাভ নেই এটা বুঝতে হবে, কারণ এটা বোর্ডের পরীক্ষা নয় যে একই প্রশ্ন বারবার কমন আসবে।

৭. কৃষক না হয়ে ফসল ফলাতে চাওয়া: বেশিরভাগ ছাত্রই আছে যারা নিয়ম কানুন ও কৌশল না শিখে বিগত প্রশ্নের উত্তর কীভাবে হলো তা শিখতে চায়, কিন্তু এটা শিখে সর্বোচ্চ ওই প্রশ্নটির উত্তর করা সম্ভব। কিন্তু নিয়ম কনুন ও কৌশলগুলো শিখলে সব প্রশ্নেরই উত্তর দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সেটা করার মতো ধৌর্য এই ছাত্রগুলোর থাকে না।

৮. পেপার না পড়া: একদল ছাত্রের ধারণা পেপার এর কী দরকার, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়লেই তো হয়। কিন্তু এমন ৬০% ছুটখাট তথ্য আছে যেগুলো আমরা জানতাম না কিন্তু সাম্প্রতিক কোনো কারণে পেপারে এসেছে এবং স্মার্ট ছাত্র হিসেবে তা জানা দরকার, আর এসব তথ্য এমন কোনো বিশেষ সাম্প্রতিক ইস্যু নয় যে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এ তা আসবে, আর এসব পেপারে খুঁজতে গেলে একজন অনভিজ্ঞ ছাত্র তা অন্য দশটা অপ্রয়োজনীয় তথ্যের সঙ্গে একাকার করে ফেলবে। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ভাইয়াদের সাহায্য প্রতিদিন নিতে হয় যা খুবই অসুবিধাজনক। পরীক্ষার্থীদের এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে আমি 'নিউজপেপার ডাইজেস্ট' সম্পাদনা করে আসছি।

৯. পেপার পড়তে ধরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ধরতে না পেরে সময় নষ্ট করে অহেতুক জিনিস পড়া।

১০. সহজ প্রশ্নের উত্তর ভুল করা: পরীক্ষায় সহজ প্রশ্নের উত্তর ভুল করা মানে প্রতিযোগিতা থেকে ছিঁটকে পড়া। একজন ছাত্র হয়তো খুব কঠিন একটা প্রশ্নের উত্তর করলো যেটা বেশিরভাগ ছাত্রই ভুল করেছে কিংবা পারেনি বলে উত্তর দেয় নি। কিন্তু সহজ একটি প্রশ্নের উত্তর ভুল করাতে সে মাইনাস মার্ক পেয়ে অনেকের পিছে পড়ে গেল।
এজন্যই আমি এ বিষয়ে ৪-৬টি ক্লাসে এটার কৌশলই শেখাই যেন কিছুতেই সহজ প্রশ্নের উত্তর ভুল না হয়।

আমি ফ্রি ক্লাস দেই এজন্য যে আমার স্বভাব হলো মানুষের উপকার করতে আমার ভালো লাগে; কিন্তু মানুষ এটাতে সায় দেয় না। কারণ, বাঙালির স্বভাব হলো ভালো জিনিস ফ্রি দিলে নিবে না কিন্তু মন্দ জিনিস সস্তায় দিলে তা নেওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বে..।

Note: আমার লেখা চুরি করার অভ্যাস যাদের আছে তারা কান খুলে শুনুন; এই লেখাটি ইলেক্ট্রিক মেথড কপিরাইটেড। এবার যদি আমার এই লেখাটি কোনো ওয়েবসাইট বা ব্লগ কপি করে তাদের আর্টিকেল হিসেবে চালিয়ে দেয় তাহলে তাকে আমি ছাড়বো না, কপিরাইট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।

© মোঃ মেহেদী হাসান
এমসিএএস গবেষক,
প্রতিষ্ঠাতা,
DU Kha Unit Admission Preparation Program (DUKUAPP)
 

মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৬

বেরোবি'র কাশসমুদ্র!

ক্যাম্পাস


দূর থেকে দেখলে হয়তো বিল কিংবা জলাধার মনে হবে, আরেকটু এগোলে হয়তো মনে হবে সাদা চাদরে মোড়ানো এক স্বপ্নিল ভূমি। কিন্তু না, এটা আসলে বেরোবি'র কাশসমুদ্র। এই মৌসুমে বেরোবিতে শুভ্র সৌন্দর্য মেলে দিয়ে কাশফুল নয়নের প্রাপ্তি পূরণ করছে প্রকৃতির সৌন্দর্য প্রেমিকদের। ছাত্র হল দুটির পশ্চিমে বিশাল ফাঁকা মাঠে এখন কাশফুলের সমারোহ। দেখে মনে হবে হয়তো পরিচর্যা করে আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু না, এমনিতেই হয়ে গেছে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য; গিফট অব ন্যাচার।

আমারও হয়তো বেরোবিকে দেখে মাঝে মাঝে প্রকৃতির কবি জন কেটস হতে ইচ্ছে করে। এখন বেরোবির সৌন্দর্য সাদা কাশফুল, আর কয়েকদিন পর আসবে লাল কৃষ্ণচূড়া, আর আসবে বৃষ্টির পানিতে সতেজ হয়ে উঠা সবুজ গালিচা বিরুৎ উদ্ভিদের সমারোহ।
বর্ষায় বেরোবিতে যখন বিভিন্ন নিচু স্থানগুলোতে পানি জমে তখন বেশ ছবির মতো সুন্দর মনে হয় স্থানগুলো, রাতে ব্যাঙের ডাক তো আছেই।

বেরোবির মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এদেশে খুব কমই আছে। এই সৌন্দর্যের কিছু অংশ তুলে ধরতেই ফেসবুকে খোলা হয়েছে "বিউটি অব বিআরইউআর" নামক পেজ।

বেরোবি মানে রঙ্গমঞ্চ, বেরোবি মানে সবুজ গালিচা, দেবদারুর অতিথিবরণে দাড়নো, কৃষ্ণচূড়ার পুষ্পতে অতিথি বরণ, কাশফুলের বিছানা, আছে জলাধার, ব্যাঙ্গের ডাক, শেষরাতে শেয়ালের হাক।
মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতা "আমাদের ছোটনদী...হাটু জল...কাশফুল...শেয়ালের হাক..."।

সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে থাকতে থাকতে রোমান্টিক হয়ে যাওয়া আর ঘুমানোর পূর্বে বিছানায় মাথা রেখে ভালোবাসার মানুষকে এসএমএস দেওয়া: 
 
স্নিগ্ধ বিকেল, শান্ত রোদ, কুয়াশা ভেজা মধুর সকাল, জ্যোৎস্না মোহিত রাত, নিঝুম রাতের ঝুম বৃষ্টি, ব্যাঙের ডাক, পাখির গান, প্রজাপতির নাচ, আধারে জোনাকির আলো, পাকা আমের গন্ধ, পাহাড়ি ঝরনার শব্দ, রংধনুর সাতরং, গোলাপের সৌরভ, শরতের কাশফুল, সাগরের ঢেউ, মেহেদি রাঙ্গা হাত, দুষ্টু রাগ, অনেক অনেক
স্বপ্ন
আনন্দ
ভালোবাসা
ও প্রেমময় জীবনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তোমাকে জানাই "শুভরাত্রি"।


বেরোবি এক স্বপ্নময় শিক্ষাভুবন।


- মেহেদী হাসান
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

ধন্যবাদ...।


রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৬

প্রথম আলোয় আমার প্রথম প্রকাশিত লেখা প্রথম পছন্দের মেয়েকে নিয়ে! কেমন অদ্ভুত মিল তাই না?

প্রথম আলোয় আমার প্রথম প্রকাশিত লেখা প্রথম পছন্দের মেয়েকে নিয়ে!
কী অদ্ভুত মিল!
আমি লিখলাম ঠিকই, কিন্তু প্রথম আলো তা ছাপালো একটু ভিন্নভাবে। আমার সম্পূর্ণ লেখাটাকে দুই ভাগ করে দুই শিরোনামে দুই অংশে ছাপালো। এই বিষয়টিতেই আমার একটি আক্ষেপ থেকে গেল। আমি লিখলাম হিস্টোরি, প্রথম আলো সেটাকে বানালো স্টোরি!

প্রথম আলোর বুধবারের ক্রোড়পত্র "অধুনা" এর "মনের বাক্স" বিভাগে আমি যা লিখলাম এবং তারা যা ছাপালো দেখে নিন:

আমি‬ লিখেছিলাম:

তুমি কি ফিরে আসবে?

অন্তরা,
তুমি কি বুঝতে পারো না গত এক বছর ধরে আমি তোমাকে একটা কিছু বলতে চেষ্টা করছি। হয়তো এতদিনে সুযোগ করে বলেও ফেলতাম কিন্তু ভার্সিটিতে পড়ি বলে তোমার মতো বেশি সময় গ্রামে থাকতে পারি না। তাই বাসায় গেলেই খুঁজে দেখি তুমিও সেই সময়ে বাসায় গেছো কি না। সর্বশেষ সুযোগ করে সেদিন তোমার বাসার সামনে গিয়ে উঠানেই তোমায় পেয়ে গেলাম কিন্তু তুমি একটু বাড়িতে ঢুকে বসতেও বললে না; কয়েকজনের সামনে রাস্তা থেকেই কথা বলে বিদায় করে দিলে।
এখন আমি কী করবো?
ছোটবেলায় প্রথম তোমাকে ভালো লেগেছিল বলে আজ ১৭ বছর পরেও তোমাকে খুঁজি। এর আগে তোমাকে রংপুর শহরে খুঁজে বের করার চেষ্টায় বেশ কিছু পাগলামিও করেছি। ফেসবুকের অনেক গ্রুপে এই ছবিটি আপলোডও করেছি।
গ্রামের গঞ্জের সেই কিন্ডারগার্টেন স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার পর সেই ক্লসেই ভালো লেগে যায় তোমায়। সেখানে পড়াশুনা করা সম্ভব হয়নি আমার। ফিরে এসে গ্রামের প্রাইমারীতে আবার পড়াশুনা শুরু করি। তাই আর এগোতে পারিনি। সেদিন আমি অনুভব করেছিলাম কত ছোট আমি!
সেদিনের সেই ছোট্ট আমি আজ কপিরাইধারী লেখক। 'খেলাঘর-২' নামক আমার একটি রোমান্টিক চিত্রনাট্য আছে যাতে আমি নায়িকা চরিত্রের নামটি তোমার নামই দিয়েছি। সেই চিত্রনাট্য থেকে ছবি বানানোর স্বপ্ন হয়তো এখন আমার কল্পনামাত্র। কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠিত 'লাইফবোট' নামক অনলাইন ম্যাগাজিনটি আমি তোমাকেই উৎসর্গ করেছি।
আমার ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন।
তুমি কি ফিরে আসবে আমার কাছে?

-মেহেদী হাসান,
বেরোবি, রংপুর।


প্রথম‬ আলো যা ছাপালো:

১. (পরের লেভেলে)

তুমি কি ফিরে আসবে আমার কাছে?

তুমি কি বুঝতে পারো না গত এক বছর ধরে আমি তোমাকে একটা কিছু বলতে চেষ্টা করছি। হয়তো এতদিনে সুযোগ করে বলেও ফেলতাম কিন্তু ভার্সিটিতে পড়ি বলে তোমার মতো বেশি সময় গ্রামে থাকতে পারি না। তাই বাসায় গেলেই খুঁজে দেখি তুমিও সেই সময়ে বাসায় গেছো কি না। সর্বশেষ সুযোগ করে সেদিন তোমার বাসার সামনে গিয়ে উঠানেই তোমায় পেয়ে গেলাম কিন্তু তুমি একটু বাড়িতে ঢুকে বসতেও বললে না; কয়েকজনের সামনে রাস্তা থেকেই কথা বলে বিদায় করে দিলে।

- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক


২. (পূর্বের লেভেলে)

এখন আমি কী করবো?

ছোটবেলায় প্রথম তোমাকে ভালো লেগেছিল বলে আজ ১৭ বছর পরেও তোমাকে খুঁজি। এর আগে তোমাকে রংপুর শহরে খুঁজে বের করার চেষ্টায় বেশ কিছু পাগলামিও করেছি। ফেসবুকের অনেক গ্রুপে এই ছবিটি আপলোডও করেছি।
গ্রামের গঞ্জের সেই কিন্ডারগার্টেন স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার পর সেই ক্লসেই ভালো লেগে যায় তোমায়। সেখানে পড়াশুনা করা সম্ভব হয়নি আমার। ফিরে এসে গ্রামের প্রাইমারীতে আবার পড়াশুনা শুরু করি। তাই আর এগোতে পারিনি। সেদিন আমি অনুভব করেছিলাম কত ছোট আমি!
সেদিনের সেই ছোট্ট আমি আজ কপিরাইধারী লেখক। 'খেলাঘর-২' নামক আমার একটি রোমান্টিক চিত্রনাট্য আছে যাতে আমি নায়িকা চরিত্রের নামটি তোমার নামই দিয়েছি। সেই চিত্রনাট্য থেকে ছবি বানানোর স্বপ্ন হয়তো এখন আমার কল্পনামাত্র। কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠিত 'লাইফবোট' নামক অনলাইন ম্যাগাজিনটি আমি তোমাকেই উৎসর্গ করেছি।
আমার ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন।
তুমি কি ফিরে আসবে আমার কাছে?

-মেহেদী হাসান,
বেরোবি, রংপুর।

প্রকাশিত ২০ এপ্রিল ২০১৬।

 ধন্যবাদ...

বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৬

Syllabus for DU Kha Unit Admission Test

সিলেবাস!



[] বাংলা

ক.→ সাহিত্য
5★
o সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত পাঠ্যসমূহ এবং এর লেখক পরিচিতি, ব্যাকরণ ও ভাষাজ্ঞান অংশ।

3★
o বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস

2★
o বাংলা পাঠ্যসমূহ (প্রকাশক, প্রকাশকাল ও প্রকাশিত বিশেষ লেখাসমূহ)


1★
o বাংলা ভাষা
o বাংলা ভাষার বংশগত শ্রেণীবিভাগ



খ.→ ব্যাকরণ ও ভাষাজ্ঞান
5★
o ণত্ব বিধান ও ষত্ব বিধান
o সন্ধি
o সমাস
o উপসর্গ
o অনুসর্গ
o বাংলা বানানরীতি→ (শেখার জন্য)
o শব্দের শ্রেণীবিভাগ
o ধ্বনির পরিবর্তন
o শব্দ শুদ্ধিকরণ
o বাক্য শুদ্ধিকরণ
o ধাতু
o ক্রিয়াপদ
o ক্রিয়ার ভাব
o সমাপিকা, অসমাপিকা ও যৌগিক ক্রিয়ার প্রয়োগ
o শব্দ গঠন
o বাংলা শব্দ সম্ভার
o সমার্থক শব্দ
o বিপরীতার্থক শব্দ
o পারিভাষিক শব্দ
o অনুবাদ
o এক কথায় প্রকাশ।


4★
o প্রকৃতি ও প্রত্যয়
o নির্ধারক বিশেষণ
o সাপেক্ষ সর্বনাম
o বাক্য প্রকরণ
o কারক ও বিভক্তি
o বাচ্য
o বাগধারা
o প্রবাদ প্রবচন→(কিন্তু বুদ্ধি করে উত্তর করতে হবে)

3★
o দ্বিরুক্ত শব্দ
o বাংলা অনুজ্ঞা
o পুরুষ
o ক্রিয়া বিভক্তি

2★
o সংযুক্ত ব্যাঞ্জন বর্ণ
o বিরাম চিহ্ন
o বচন
o পদ ও পদের শ্রেণীবিভাগ
o ক্রিয়ার কাল
o ধাতুর গণ


1★
o বাংলা ব্যাকরণ ও এর প্রয়োগবিধি
o ধ্বনি প্রকরণ
o পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ
o সংখ্যাবাচক শব্দ
o ভাষারীতি রূপান্তর
o পদাশ্রিত নির্দেশক
o একই শব্দের ভিন্নার্থক প্রয়োগ
o বাক্যে পদসংস্থাপনার ক্রম
o সমোচ্চারিত শব্দ
o পদ পরিবর্তন
o সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদ
o বাক্য রূপান্তর
o উচ্চারণ
+ বিবিধ।


[] English

A.→Literature
5★
o Stories and Poems of the Text Book, Analysis of the works and writers.
o Grammar and Language knowledge based on the Text Book.


B.→Grammar and LK
5★
o Forms of word (Form Selection)
o Correct Sentence Selection
o Using Right Forms of Word
o Right Forms of Verb
o Subject-Verb Agreement
o Either__ or/ Neither__ nor
o Tag Question
o সঠিক ইংরেজি অনুবাদ
o Appropriate Preposition
o Linking Words
o Synonym
o Antonym
o Correct Spelling

4★
o Conditional Sentence
o Use of Articles
o Idioms and Phrases
o Group Verbs

3★
o Parts of Speech
o Noun (Countable and Uncountable Noun)
o Kinds of, Type of, One of
o Sentence Correction
o Classification of Verbs
o Sequence of Tense
o Inversion
o Nominal That Clause
o Embedded Question
o Conjunction in Details
o Infinitive, Gerund and Participle in Details
o Modal Auxiliaries
o Causative Verbs
o Comparison of Adjective & Adverbs
o Parallelism
o Agreement
o Subjunctives


2★
o Affix
o Pronoun in Details
o Adjective in Details
o Adverbs in Details
o Sentence Completion
o Analogy
o Classification of Clause
o Adjective Clause
o Reduced Adjective Clause
o Adverb Clause
o Reduced Adverb Clause
o Dangling Modifier
o General Preposition
o Number

1★
o Voice
o Degree of Adjective
o Gender
o Direct and Indirect Speech


বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৬

তেতুলিয়ায় একদিন

ভ্রমণ!





এটা ছিল আমাদের বিভাগের পিকনিক। বেরোবি'র "ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব" বিভাগ ১৩ই মার্চ ২০১৬ তে যাত্রা শুরু করলাম তেতুলিয়ার উদ্দেশ্যে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। দুপুরের আগেভাগে তেতুলিয়া ডাকবাংলোতে গাড়ি থামিয়ে রান্নার জিনিসপত্র নামিয়ে নেওয়া হলো এবং বাবুর্চিরা নেমে কাজে লেগে পরলো। সংগত কারণেই এ আয়োজনে আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী স্যার ছাড়া অন্য কোন শিক্ষক উপস্থিত থাকতে পারেন নি; তিনি স্ত্রী সন্তান সহ ছিলেন। যাহোক ডাকবাংলো থেকে গাড়ি এবার বাংলাবান্দা জিরো পয়েন্টে ছেড়ে দিল। গাড়ি বাংলাবান্দায় থামলে এবার আমরা নেমে জিরো পয়েন্টে গিয়ে ছবি তুলতে শুরু করলাম।

জায়গাটা বেশ উন্নত লাগছিল। উন্নত রাস্তা, উন্নত পরিষ্কার ভবন আশেপাশে। ভারত হতে গাড়ি ঢুকছে বাংলাদেশে। বিজিবির একজন সদস্য ড্রাইভারের আইডেন্টিটি চেক করে করে ঢোকাচ্ছিলেন। এলাকাটা একদম ভিন্ন এবং চীন দেশের মতো মনে হচ্ছিল। অল্প কিছু দূরেই ভারতের কাঁটাতারের বেড়া এবং তার ওপাশে ভারতীয় বৈদ্যুতিক তারের খুঁটি ও টেলিযোগাযোগ লাইনের স্তম্ভ। ছবির মতো সুন্দর! ভালই লাগছিল। তবে এখানে অনেক শ্রমিক পাথর
ভাঙ্গার কাজ করছিল ইট ভাঙ্গার মেশিনে। মেশিনের ইয়ার ক্লিনার খুলে সেখানে পাইপ লাগিয়ে উঁচুতে তা সেট করে রাখা হয় পতকা টানানোর মতো করে।

সেখান থেকে ফিরে আমাদের মিশন শুরু হলো ডাকবাংলোর পাশের মহানন্দা নদীর উপরে চরের বালিতে হাঁটা। নদীর ওপাশে ভারতীয়দের চা এর জমি; নদীর মাঝামাঝি দিয়ে সীমানারেখা কারণ, ভারতীয়রা কাঁটাতারের বাইরেও কিছু অংশ নিজেদের সীমানা রেখে বেড়া দেয়। নদীর কিছু অংশে চর কিছু অংশে পানি। কোথাও হাটু পানি কোথাও প্রায় কোমর খানেক। আমাদের ৬ষ্ঠ ব্যাচের দুরন্ত ছেলেরা ব্যাগ হতে স্টক কাপড় বের করে পড়ে নিয়ে গোসল ও দৌড় ঝাঁপ শুরু করে দিল। স্বচ্ছ পানি; যেখানে পানি হাটুখানেক বা তার নিচে সেখানে পানির নিচের বালি দেখা যায়। অনেকে কক্সবাজারে ছবি তোলার মতো ছবি তুলতে শুরু করে দিল আর এভাবে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর চেষ্টার সদ্ব্যবহার করতে শুরু করলো। সেলফি, ফটো, হাটাহাটি দিয়েই এ সেশন শেষ হলো।

এরপরের সেশন শুরু হলো ভ্যানে উঠে। দূর থেকে দার্জিলিং ব্রিজ দেখে আর একটু সামনে এগোনো শুরু হলো। একটু দূরে গিয়ে ভারতীয়দের চা বাগানে যাওয়া হলো। যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে গিয়েছিলাম, বেশিক্ষণ থাকা যাবে না ওখানে। একটি সরু নালা, তার এপাশে বাংলাদেশ ওপাশে ভারত। চা বাগানের চা গাছগুলোর আকৃতি দেখতে দারুণ সুন্দর লাগলো; বনসাই এর মতো। উপর থেকে দেখলে একমাপে ছেঁটে দেওয়া। নিচ থেকে গাছের গোড়াগুলো দেখতে চেষ্টা করলাম। শ্যাম্পুর এ্যাড এর মতো সব গাছের সুন্দর স্থাপন ও সুনিপুণ অবস্থান। অপরূপ সুন্দর!

সেখানে থেকে ফিরে আর কিছু দেখার বাকি থাকলো না। বিকেল চারটার দিকে তিন পর্বে ভোজনপর্ব শেষ করে সন্ধ্যায় লটারি ড্রর মধ্য দিয়ে আমাদের আয়োজন শেষ। স্মৃতিতে স্থান করে নিলো একটি স্বপ্নিল ভ্রমণ।
বাই বাই তেতুলিয়া, সি মোর এগেইন উইথ মাই বিলাভড....।

-মোঃ মেহেদী হাসান
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০১৬

একদিন বহুদিন

Eakdin Bohudin
By
Mahadi Hasan




তখন আমাদের বাড়িটা ছিল অন্যরকম। আমার জ্যাঠার পরিবারটা তখন এই সাবেক বাড়িতে ছিলেন। বাড়িতে ছয়টা থাকার ঘর, তিনটা গোয়াল ঘর, ও দুইটা রান্নাঘর ছিল। তিনটা পরিবারের বাস। আমাদের পরিবারটাই ছিল সবচেয়ে ছোট; বাবা, মা আর আমি। আমার আপন জ্যাঠার পরিবারে তখন পাঁচজন লোক। আমার অন্য জ্যাঠার পরিবারেও পাঁচজন লোক। বাড়িটা সবসময় মানুষে সমাগম থাকত।
আমার আপন জ্যাঠার পরিবারটা আর আমাদের পরিবার মিলে একটা রান্নাঘর, একটা গোয়ালঘর, গোয়ালঘর আবশ্য দুইটা; একটা বড়, একটা ছোট; গাভী গাভীন হলে ছোটোটাতে রাখা হতো, একটা কূপ ও একটা নলকূপ। তখন আশেপাশের কয়েক বাড়ির মধ্যে কেবল আমাদের নলকূপ ছিল। কূপটা শানে বাঁধানো; অবস্য নলকূপ বসানোর পর সেটা ধীরে ধীরে বাড়ীর আর্বজনা ফেলে ভরাট করা হয়েছিল। কলের পাড়ে ছিল একটা পেয়ারা গাছ, একটা পেপেগাছ আর উত্তর পার্শে আমাদের থাকার ঘরের পেছনে ছিল একটা কাঁচা ল্যাট্রিন তার দেয়াল ছিল মাটির।
রান্নাঘরটা ছিল কলেপাড়ের সঙ্গে লাগিয়েই দক্ষিণ পাশে আর তার কিছুটা পেছনে একটা নর্দামা; বাড়ির কূপের নর্দামা, বেশ বড় ও চারদিক বাঁধানো; সেখানে পানি জমে থাকত, শেওলা জন্মাতো ও ব্যাঙ্গের লাফ দেখতে মজা পেতাম আমরা।
আমাদের বাড়ির পেছনে ছিল হোট বাঁশবন আর আমাদের চত্তর পেরিয়ে উত্তর পাশে আমার অন্য জ্যাঠার চত্তরে ছিল একটা বেশ বড় কাঠালগাছ আর তার পাশে সুউচ্চ দুইটি সুপারির গাছ। পাশের গ্রামের লোকেরাও দেখতে পেত সেই সুপারির গাছের মাথা।
আমাদের বাড়ির গেটটা দক্ষিণ দুয়ারী। বাড়ি থেকে বেরিয়ে উঠান, তারপর একটু পশ্চিমে গিয়ে সরু রাস্তা দক্ষিণে চলে গিয়ে মূল রাস্তার সঙ্গে লেগেছে। রাস্তাটা চতরাহাট হতে খালাশপীর হাট, অর্থাৎ আমাদের বাড়িটা রাস্তার পাশে। এই সরু রাস্তা থেকেই আমাদের বাড়ির সীমানা শেষ। তার পশ্চিমে বুড়ো করমতের আমগাছের বাগান ও পুকুর। পুকুরটা আমগাছের পশ্চিমে; পাশাপাশি কয়েকটি আমগাছ। আমগাছের নিচের জমিটা নিচু, বর্ষাকালে আমাদের বাড়ির পানি নেমে গিয়ে সেখানে পানি জমে থাকতো প্রায় হাটুখানেক। তখন আমাদের কয়েক বাড়ির শিশুদের আনন্দ আর ধরতো না। সেই পানির মধ্যে খেলতাম, দৌড়াতাম, কাগজের নৌকা এবং এটা সেটা ভাসিয়ে নিয়ে বেড়াতাম তার মধ্যে আর হইচই চলতো।
আমাদের বাড়ির পেছনে যে বাঁশঝাড়টা তার পাশে ছিল একটা জিগার গাছ। সেই জিগার গাছ হতে গাড় আঠা পড়ে ভরে থাকত মাটিতে। সকালবেলা ছোট ছোট মুরগির বাচ্চারা তাতে পড়ে গিয়ে নাজেহাল হত, উঠতে পারত না। সেই জিগার গাছের কাছে ও বাঁশঝাড়ের অপর পাশে আমার জ্যাঠার ঘরের পেছনে এই দুই জায়গায় থাকত দুইটা খড়ের গাদা। একবার আমি ছেলেদের সঙ্গে খেলতে খেলতে দৌড়াদৌড়ি করে এত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম যে খড়ের গাদা ও বাঁশঝাড়ের সন্ধিস্থলে ছোট সুন্দর জায়গায় শুয়ে পড়লাম খড়ের গাদায় হেলান দিয়ে এবং সেখানে ঘুমিয়ে পড়লাম। কে যেন দেখতে পেয়ে আমার মাকে এসে জানায়। আমার মা আমার কাছে গিয়ে আতঙ্কিত হয়ে আমাকে ডাক দিলেন তাতে ঘুম ভেঙ্গে আমি থতমত খেয়ে গেলাম।
ছোট বেলায় একবার আমার একটা মরণরোগ হয়েছিল। একটা রোগ চিনতে ভুল করে ডাক্তার দিয়েছিলেন কৃমির তরল ঔষধ। তাতে আমার রোগ অন্য পর্যায়ে পৌছে যায়। আমার সেই রোগ রূপ নিয়ে হয়ে যায় কিডনির রোগ। দিনদিন রোগ বাড়তে থাকে। কত চিকিৎসা কিন্তুু কিছুতেই কিছু হল না। শেষে একদিন আমার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেল। পেট ও সারা শরীর ফুলে গেল, শরীরের চামড়া ফেটে গিয়ে রস পড়তে লাগল। শেষে আর কোন চিকিৎসা বাকি থাকল না। বাড়িতে কান্নাকাটি উঠে গেল; কোরবানী মানস হলো। শেষে এলেন চতরার এক ডাক্তার। একটা ঔষুধ দিলেন; বললেন,“এই ঔষুধ খাওয়ার পর যদি ঘুমিয়ে পড়ে এবং রাত্রে প্রস্রাব করে তাহলে বাঁচার সম্ভাবনা আছে, তা না হলে আর কোনো চিকিৎসা দেখছি না। আমি ঔষধ খেলাম, সারাদিনের যন্ত্রণা যেন বিলীন হয়ে গেল, গভীর ক্লান্তি এলো শরীরে, ঘুমিয়ে পড়লাম আমি। গভীর ঘুমের জগতে গেলাম। আমার বাড়ির সকলেই জেগে ছিলেন সেই রাতে আমাকে পাশে নিয়ে। অবস্থা বেগতিক শুনে নানাও এসেছিলেন, আমার পাশে বসেছিলেন। মাঝরাতের একটু পর আমার ঘুম ভাঙ্গল। চোখ খুলে দেখি পাশে আমার নানা, আমার বাবা, মা ও অন্যরা। আমি যেন মৃত্যুর জগৎ থেকে ফিরে এলাম। আমার এই চোখ খোলাতে সহস্র আশার প্রদীপ জ্বলে উঠল সকলের অন্তরে। আমাকে ঘুম থেকে তুলে দেখলেন ভিজে গেছে বিছানা প্রস্রাবে। সেই তখন কেটে গেছে আমার জীবনের একটি ভয়ঙ্কর অধ্যয়। তারপরও বহুদিন ধরে বুজুরি সিরাপ খেয়েছি সেই রোগ থেকে চিরমুক্তির জন্য।
বাড়ির লোকদের কথা বলি। আমার জ্যেঠাতো ভাই মেস্তাফিজ ও অন্য জ্যোঠার ছোট ছেলে এনামুল ভাই; তারা পাথারে যেতেন গরু, ছাগল, ভেড়াগুলোকে বাঁধতে, ঘাস খাওয়াতে। যাওয়ার সময় সঙ্গে নিতেন আমাকে কিন্তুু আমি পড়তাম মহাযন্ত্রণায়; মোস্তা ভাই গরু-ছাগল বাঁধবেন একট জায়গায় আর এনামুল ভাই বাঁধবেন অন্য জায়গায়। তারা আমার সঙ্গে জেদ লাগাতেন আর আমি পড়তাম থতমতে; আমি কার সঙ্গে যাই, দু’জনের কেউ ছাড়ে না। শেষ পর্যন্ত যেতাম এনামুন ভাই এর সঙ্গে কারণ সে ছাড়ত না কিছুতেই। তখন যেতে যেতে মোস্তা ভাই বলতেন,“পুচকি পরে দেখিস মজা!”
গ্রামে আখ-মাড়াইয়ের সময় আসতো। আখের চাষ হত। সেই আখের গুড় তৈরী হত কত কঠিন পদ্ধতিতে। দিনরাত গরু দিয়ে কল ঘুরিয়ে আখের রস বের করা হতো। তাহা পাক করা হত কত বিরাট এক কড়াইয়ে; সে চুলাটা ছিল প্রায় একটা কুয়ার সমান আর প্রসারিত। তখন আমি সেসব দেখতাম আর অবাক হতাম।
মাঝে মাঝে বছরে দু’একবার আমার জ্যোঠাতো বোন ফিরোজা ঢাকা থেকে বেড়াতে আসতেন আমার ভাগ্নে-ভান্নিদের সঙ্গে নিয়ে। তখন আমাদের বাড়িতে প্রায় উৎসবের শুরু হত। তাদের সঙ্গে করে নিয়ে বেড়াতেন মোস্তা ভাই সঙ্গে থাকতাম আমিও। মাঠে যেতাম, শীতের সময় আখের খেত তখন কাটা শুরু হত; আখের জমি ভরে থাকত ফুলে ফুলে। আমরা সেই লম্বা ফুলগুলি কয়েকটি করে নিয়ে বাড়ি ফিরতাম।
বাড়ির পূর্ব পাশের থাকার ঘরটিতে থাকতেন মাহফুজ ভাই। সে লেখাপড়া করত। তার ঘরে থাকত ইয়া বড় ক্যালেন্ডার; বাংলাদেশের মানচিত্র তাতে। আমি এসব বুঝতাম না, আমি মনে করতাম পুরো বাংলাদেশটি দুইটা প্রাণি। উপরেরটা বড় প্রাণি এবং নিচেরটা ছোট প্রাণি; নিচেরটা মানে পার্বত্য চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার নিয়ে গঠিত অংশটি, এবং বলতাম বড় প্রাণিটি ছোট প্রাণিটিকে ধরে খাচ্ছে। আমার এই অদ্ভুত কথা শুনে মোস্তা ভাই আমাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিতেন; বলতেন,‘পুছকি এটা বংলাদেশের ম্যাপ।
তখন বর্ষাকালে বৃষ্টি হলে জমিতে পানি আটকানোর ও হাল দেওয়ার ধুম পড়ে যেত। পুরো মাঠে মানুষ কাজে মেতে উঠত। মোস্তা ভাই এর সঙ্গে মাঠে গিয়ে আমি মুগ্ধ হয়ে এসব দেখতাম। কত মানুষ সারা মাঠে কাদার মধ্যে কাজ করছে। কতগুলি চাষী হাল নিয়ে এসেছে। জমি কাদা করা হচ্ছে। চারদিক নীরব, শান্ত; মাঝে মাঝে কিছু চাষীর গরু তাড়ানোর ডাক“এই জোরে-ঐ-জোরে, হট-ডান-ডান”। এসব দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে যেতাম।
আমি খুব ছোট থাকতে বাবা-মা একবার ঢাকায় গিয়েছিলেন আমার জ্যোঠাতো বোনের বাড়িতে বেড়াতে। যাওয়ার দিনে লঞ্চে অন্ধকার জমেছিল। আমি ভয় পেয়েছিলাম। একজন কালো কোর্ট ও কালো চশমা পড়া লোককে দেখেছিলাম, মনে পড়ে। অতিরিক্ত যাত্রি বহনে লঞ্চটা বিপর্যয়ে পড়ার মতো দশা। বাবা যমুনা নদীতে সারাটা সময় দোয়া পড়েছিলেন। সেদিন বাস ধর্মঘট ছিল। যমুনা পার হয়ে বাস পাওয়া যাচ্ছিল না। পূর্বের আসা বাসটি রাজনৈতিক মাস্তানরা অপর পাড়ে আটকে রেখেছিল। শেষে বহু কষ্টের পর একটা বাস পাওয়া গিয়েছিল সেটা আবার লোকজনে পরিপূর্ণ। আমাকে কোলে নিয়ে তাদেরকে দাড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। তারপর বহু কষ্টে ঢাকায় পৌছেছিলেন। ঢাকায় গিয়ে খেলতাম ফয়সালের সঙ্গে, সে আমার ভাগ্নে; বয়সে বড়, তার বেশ সুন্দর সুন্দর খেলনা ছিল। ঢাকায় আমাদের সঙ্গে মাফুভাই গিয়েছিলেন। তিনি বজ্জাতি করে আমার একটা ল্যাংটা ছবি তুলেছিলেন তাদের বাসার ক্যামেরায়। সেটা প্রিন্ট করে নেওয়ার পর সকলে দেখে হেসেছিল।
আমার জ্যোঠাতো ভাই মোস্তাফিজ ও এনামুল কাঠালপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তেন। সকাল হলে যখন সূর্য উঠত তার কিছু পরে গ্রামের কিছু ছেলে রওয়ানা হত স্কুলে। কাঠালপাড়া প্রাথমিক স্কুল আমাদের গ্রাম থেকে পশ্চিমে এক কিলোমিটার দূরে। একদিন সেখানে পিকনিক হল। আমি এনামুল ভাইয়ের কাছ থেকে শোনামাত্র তার সঙ্গে জেদ ধরলাম আমিও সঙ্গে যাব। বৃষ্টির দিন, তাই তিনি আমাকে নিয়ে যেতে ইতস্ত বোধ করছিলেন কিন্তুু আমি ছাড়ছি না। এনামুল ভাই এর উপর ভার পড়েছিল ভাত পাকানোর হাড়ির। তাই তিনি একটি হাড়ি ও একটি প্লেট নিয়ে চললেন এবং আমিও তার সঙ্গে চললাম একটি প্লেট হাতে নিয়ে। পিকনিকের রান্না শেষ হল কিন্তুু খাওয়ার সময়ে বৃষ্টি শুরু হল। তখন সকলে স্কুলের ভেতরে ঢুকে খেতে লাগল। টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ছিল। যে যেটুকু নিয়েছিল তার বেশি দ্বিতীয়বার নিতে পারল না। বৃষ্টির মধ্যে সবাই বেঞ্চে উপরে পা তুলে বসে যে যার মত খাওয়া শেষ করল। ভাত ও মাংশ বেশি হয়েছিল; সেগুলো কিছু অন্যদের দিয়ে বাকিটা এনামুল ভাই ও অন্য একটা ছেলে মিলে হাড়ি ধরে নিয়ে বাড়িতে এলেন। আমি স্কুলে বেশি খাইনি, মাত্র একটু। বাড়িতে খেতে বললেও খেলাম না। আমাকে বললেন,“কিছু তো খাইলিই না শুধু শুধু জেদ ধরলি”। আসলে খাওয়া না আমি আনন্দিত হয়েছিলাম পিকনিক দেখতে পেয়ে। পিকনিক কি রকম তা দেখার জন্যই আমি উদগ্রীব হয়েছিলাম আর দেখতে পেয়ে নন্দিত হয়েছিলাম।
শৈশবের একটা বন্যার কথা আমার বেশি মনে পড়ে। যখন আমি ছোট ছিলাম; ১৯৯৮ সালের বন্যা। আমাদের বাড়ির উঠানে পানি জমেছিল। বাড়ির পেছনে এক হাটুর চেয়ে বেশি পানি; বাড়িতে এক বিঘত। ঘর ছেড়ে আমরা বাহিরে চৌকি ফেলে থাকতাম। ঘরের চারদিকে বন্যার জল, কখন বিপদ আসে বলা যায় না, তাই রাতে থাকা হতো বাহিরে সেই চৌকিতে। বাড়ির আঙ্গিনায় দু’তিনটা চৌকি, একটায় আমরা থকতাম আর অন্যগুলোতে আমার জ্যাঠার পরিবার। চারদিকে জল। সেই চৌকি থেকে দুইটা লম্বা বেঞ্চি মাথামাথি জোড়া লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল বারান্দার সঙ্গে। মাত্র ইঞ্চি খানেকের জন্য বারান্দায় পানি উঠেনি। আমি সেই বেঞ্চি দিয়ে ঘরে আসতাম বারান্দায় বেড়াতাম আবার চৌকিতে যেতাম। মা-বাবা আমাকে নিয়ে ভিষণ চিন্তায় ছিলেন ঐ সময়। চারদিকে জল। আমাদের ছিল প্রায় দশ মণ গম ও বিশ মণ ধান; ধান গমগুলো পাশের গ্রাম যাদবপুরে রেখে আসা হয়েছিল। গরুগুলো কাঠালপাড়া স্কুলে রেখে আসা হয়েছিল। সেখানে গরু দেখাশোনা করতেন আমার এক চাচা; সে আমাদের বাড়িতে কাজ করতো এবং সম্পর্কে চাচা ছিল। সেই স্কুলঘরে আরও বহু লোকের গরু বাছুর ছিল সেবার বন্যাতে, বহু দূর্ভোগ পোহতে হয়েছে সেবার।
মাঝে মাঝে যখন বেশি কাজ থাকতনা সেই অবসর সময়ে আমার মা আমাকে নিয়ে নানার বাড়িতে বেড়াতে যেতেন। নানার বাড়ি আমার কাছে মধুর লাগত। কয়েকদিন থাকার পর কোন এক রাত্রে ফজরের সময়ে আমার ঘুম ভেঙ্গে যেত। তাকিয়ে দেখতাম উপরে ছাদের নিচে টাঙ্গানো চান্দা, নকশী কাপড় দিয়ে তৈরী। মাকে জিজ্ঞেস করতাম “মা আমরা কখন বাড়ি যাব”। এরই মধ্যে হয়ত বাবাও যেতেন বেড়াতে। বাবা গিয়ে সাইকেলটা থামাতেন সেখানে যেখানে গোয়াল ঘরের দক্ষিণ-পূর্বের কোণটা ছিল।
গ্রামের মাঠের কথা বলি। তখন সবেমাত্র ইরি মৌসুমের ধানের চাষ শুরু হয়েছে। আমাদের একটা শ্যালো মেশিন কিনেছে। পুরো মাঠ মিলে কয়েকটা শ্যালো মেশিন। মাঠের প্রকৃতি বদলে গেল। ইরির মৌসুমে সারা মাঠ ফাকা, শীত, শীতল সাতাস। ক্রমান্বয়ে গ্রামে শ্যালো মেশিনের সংখ্যা বাড়তে লাগল; ইরি চাষও প্রসারিত হতে লাগল। আবার শীতের সময় কত সুন্দর দেখাতো শীতকালীন সবজি দিয়ে ভরা ফসলের মাঠটি। তিল, তিশি, সরিসার ক্ষেত্রে অপরূপ সৌন্দর্য ছড়াতো ফুলে ফুলে ভরে গিয়ে; তাতে থাকত কত প্রজাপতির বাহার। সুন্দর লাগত পেয়াজ ও মুলার ফুলগুলিও।
বর্ষণমুখর দিনের কথা বলি। আমি বর্ষা কি? বা বৃষ্টি কি তাহা যতদিন জ্ঞানে ছিল না ততদিন তো কিছুই বুঝতাম না, তবে যখন বুঝে এলো তখনকার প্রথম বৃষ্টির দিনের কথাটা বলি। সকালে বৃষ্টি শুরু হল, আমি দেখে আশ্চর্য হলাম এবং মনটা ভীষণভাবে খারাপ হয়ে গেল, ‘এটা কি হচ্ছে!’। পরে যখন ব্যাপরটা বুঝতে পারলাম তখন মনটা ভাল হয়ে গেল।
আমার জ্যোঠার বাড়ি ছেড়ে নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময়টা ছিল গৃস্মের শেষ ও বর্ষার শুরু। তারা তাদের ঘর থেকে টিন খুলে নিয়ে গেলেন এবং আমাদের একটি ঘরের টিনগুলোও অকেজো হয়েছে, তাই বাবা ঠিক করলেন দুইটা ঘরেই নতুন টিন দিবেন। তখন মিস্ত্রি এনে অন্য ঘরটারও টিন খুলে ফেললেন। সেদিন রাতে বৃষ্টি শুরু হল। আমাদের অন্য ঘরটা যেটায় আমি থাকতাম সেটার টিন ছিল ভাল, সেটার টিন খোলা হয়নি। টিন খোলা ঘরের ছাদের উপরে বাবা টিন বিছিয়ে দিয়েছিলেন; তবুও রাতে পানি ঢোকায় অন্য ঘরটাতে চলে আসতে হয়েছিল। তখন আমার ছোট ভাইটা ছিল কোলের ছেলে। আমার মা ছিল তাকে নিয়ে মহাসমস্যায়।
ঋতুচক্রে শীত আসে। শীতের সময়ে বাড়ির সকলে মিলে আগুন জ্বালিয়ে তার পাশে বসে গল্প শুরু হত। এসময় গরু চুরি হত; কোথায় কোনদিন রাতে কার গরু চুরি হয়েছে তার গল্প, হাটে কোন জিনিসের বাজার কত গেছে তার গল্প, কার কোন ফসল কেমন হয়েছে তার গল্প, আরও কত গল্প। তারপর রীতি হয়ে উঠতো সকাল ও দুপুর রোদে বসে ভাত খাওয়া। শীতে জমত পিঠার উৎসব; নারকেল পিঠা, ভাপা পিঠা আরও কত পিঠা খাওয়া হত।
আমাদের বাড়িতে থাকার ঘরকটা ছাড়া বাকি ঘরকটা এবং আশেপাশের বাড়ির সকল ঘর ছিল খড়ের চালার। হেমন্তে যখন ধানের কাজ শেষ করার পর চারদিক ঘর মেরামতের ধুম পড়ত তখন আমাদের এক নতুন অনুভূতি জাগত। হেমন্তে নবান্ন উৎসব হত; মিলাদ পড়ানো হতো বাড়ি বাড়ি। কত সুন্দর লাগত সেই মিলাদের সুর। নীল-কোমর নামে যে ধানটি তখন চাষ করা হত তার নতুন ভাতের সুগন্ধে ঘরদোর বিমোহিত হতো। আর সেই নবান্নের পায়েশ কত মধুরই না ছিল।
আমাদের গ্রামের মধ্যে দিয়ে যে রাস্তাটা চলে গেছে তার কথা বলি। সেটা ছিল কাচা রাস্তা। রাস্তায় জমে থাকত প্রচুর ধুলো। আমরা ধুলো দিয়ে খেলতাম। আবার বর্ষাকালে সেই রাস্তায় কাদাও হতো প্রচুর। একবার এক কালবৈশাখির প্রবল বর্ষনে সেই রাস্তার সব ধুলো এমনভাবে উড়ে গিয়ে ও বৃষ্টিতে ধুয়ে নিচে নেমেছিল যে পরের দিন সকালে রাস্তাটা ছিল ফাটা। সেই রাস্তাটাকে সেবারেই আমি জীবনে একবার ধুলাশূন্য দেখেছিলাম; সেদিন চারদিকটা নতুন মনে হয়েছিল। সূর্য দেখা গিয়েছিল একটু দেরিতে কিন্তুু সেই সূর্যও যেন ছিল নতুন সূর্য।
প্রকৃতির বুকে বসন্ত আসে, কোকিল কুহুকুহু ডাকে। চারদিক ফুলে ফুলে ভরে যায়। শীতে গাছের ঝরে যাওয়া পাতাগুলো জেগে উঠে। সবুজের সমারোহে চারদিক ভরে যায়। ফুলের সুবাসে চারদিক বিমোহিত হয়। আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ, ঝিঝির মোহিত গুঞ্জন।
আমাদের অত্র এলাকার মধ্য একটা পুরাতন মেলা ছিল বৌ-বান্নি মেলা। পূর্বে নাকি সেখানে বৌ বেচাকেনা হত সেই থেকেই নাকি এই নামকরন। একবার বাবা যাবেন বৌ বান্নি মেলায়; আমি জানতে পেরে ধরলাম জেদ, আমিও যাব। শেষ পর্যন্ত আমাকে না নিয়ে পারলেন না। বৌ-বান্নি মেলা যেখানে শুরু হয় তার পাশেই আমার বাবার মামার বাড়ি। বাবার ইচ্ছা ছিল সেখানে থাকবেন কিন্তুু আমার জন্য থাকতে পারলেন না। আমি জেদ ধরলাম বাড়ি আসব।
সেবার মেলা থেকে কাঠের তৈরী একটা খেলনা ট্রাক এনেছিলাম। সেটা দিয়ে রাস্তার ধুলা, এটা সেটা বহন করে খেলতাম। সেটার সামনে সুতা লগিয়ে টেনে টেনে নিয়ে বেড়াতাম।
আমি ধীরে ধীরে বড় হচ্ছি। একদিন স্কুলে গেলাম বাবা-মা এর চাপে। স্কুলে না যাওয়ার জন্য পূর্বে কয়েকদিন পেটনও খেয়েছি, বকা খেয়েছি তো বহুত। অবশেষে স্কুলের প্রতি আমার অনুরাগ জন্মিল। আমি নিয়মিত স্কুলের ছাত্র হয়ে গেলাম। কত হাসি-কান্না নিয়ে চলতে লাগল আমার শৈশব। গ্রামের এক প্রান্তে প্রাইমারি স্কুল। স্কুলে একবার বন্যার পানি উঠেছিল। ঘরের ভেতর এক হাটুর মত পানি। তখন আমাদের স্কুল বন্ধ ছিল কয়েকদিন। বাঁশের চাটাই দিয়ে ঘেরা স্কুল, পথের ধারে, সামনে ধানের জমি, স্কুলের চারপাশে কিছু ইউক্যালিপটাস বৃক্ষ। পতাকা উড়ত পতপত করে, লাল সবুজের পতাকা।

আমি গ্রামের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খেলতাম দৌড়াদৌড়ি, লুকোচুরি ইত্যাদি। তবে আমার এসব খেলার শুরু স্কুলে পড়ার পড় থেকে, তার আগে আমি একাই খেলতাম খেলনা দিয়ে। ফিরোজা আপাও আমাকে বেশ কিছু খেলনা দিয়েছিলেন।
আমাদের বাড়ি থেকে পূর্বে রাস্তার দক্ষিণ পাশে আমাদের যে বাঁশের বাগানটা সেটা ছিল আমাদের আবাদী জমি। আর তার পশ্চিম পাশে পাশাপাশি দুটো আমগাছ। আর গাছদুটোর দক্ষিণ পাশে আমার দাদা-দাদীর কবর। সেই একটা আমগাছের কারণে অন্যটার নাম বদলে গিয়েছিল। একটা ছিল কাচামিঠে; ফলে তার আম খাওয়া জুটত না, সারাদিন লোকের একটাই কাজ, সেই আম পাড়া। পরে সেটা কাটা হয়েছিল কিন্তুু সেটার কারণে পাশের গাছটার নাম যে ‘ট্যাঙ্গ্যা’ হয়েছিল তা আর পরিবর্তন হয়নি, অথচ কত সুন্দর মিষ্টি সেই গাছের আম। কিন্তুু গাছটাতে গত কয়েক বছর হল আর আম ধরছে না। জমিটাতে ফসল হত না মানুষের অত্যাচারে; তাই আমরা সেটাতে বাঁশ বাগান করেছি কয়েক বছর হল। বাশঝাড় বৃদ্ধি পাচ্ছে ধীরে ধীরে। আমার দাদা-দাদীর কবরটা পাকা করে বেধে দেওয়া হয়েছে অল্প কিছুদিন হয়। তার পাশে দাড়িয়ে আছে আমগাছটা অন্য সঙ্গী গাছটাকে ছেড়ে; যার কারণে আজ তার ঘাড়ে মিথ্যা অপবাদ সে আজ নেই তাই একা দাড়িয়ে আছে তাকে হারিয়ে।
আমি বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও তেমন যেতাম না তাই আমার জ্ঞান ছিল সীমিত। শৈশবে একদিন বাবার সঙ্গে গেলাম হাটে। হাট থেকে ফেরার সময় আমাকে সহ খরচ রেখে বাবা সাইকেল আনতে গেলেন গ্যারেজে। বাবা আসতে দেরি করছিলেন। এ সময় কে যেন একজন আমাকে বললেন,“তোর বাপ তোকে রেখে বাড়ি চলে গেছে”। আমি ভাবলাম গ্যারেজের পাশে যে বড় শস্য গুদামটি আছে, ইয়া বড় তালা তার, তাতে হয়ত বাবাকে আটকে রেখেছে। আমি কান্না জুড়ে দিলাম। বাবা এসে আমাকে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন,“বাবা, কঁদছেন কেন?” মুখ তুলে তাকিয়ে আমি চমকে গেলাম, বাবা এসেছেন!
আমি ছোটবেলা থেকেই গল্প শুনতে ও বলতে ভালবাসতাম। এটি ছিল আমার প্রিয় কাজগুলোর একটি। আমি কোন গল্প একবার শুনলেই তা পরিস্কারভাবে মনে রাখতে পারতাম। পরে তা লোকজনদের সুনাতাম মধুর সুরে। গ্রামের চৌমাথায় কয়েকটি টিনের তৈরী দোকান ছিল। সেখানে বটগাছের তলায় আমি গল্প বলতাম। আমার বলা গল্প শোনার জন্য লোকজন চারদিকে গোল হয়ে বসতো; আমি থাকতাম মাঝে দাড়িয়ে নয়ত বসে। সকলে মুগ্ধ হয়ে আমার উপস্থাপনা শুনতো। হঠাৎ একদিন মাথায় এক ভিন্ন বুদ্ধি এলো; আমি গল্প শোনাতে শর্ত জুড়ে দিলাম, কিন্তুু তারা ভিন্ন বুদ্ধি খাটিয়ে বিভিন্ন প্রকারের ভয় দেখিয়ে, চালাকি করে তা পন্ড করে দিল।
শৈশবে আমরা খেলানোর জন্য একটা কাজ করতাম। একটা কলার গাছের লম্বা টুকরোকে মাটির নিচে কিছু অংশ পুতে দিয়ে তা কোমর খানেকের চেয়ে একটু নিচু করে তার উপরে আর একটা লম্বা কলাগাছের টুকরোকে আনুভুমিকভাবে রেখে তার মাঝে ও উলম্বটির মধ্যে সেই খুটি পুতে দিতাম। তারপর আনুভুমিক অংশটির দু’পাশে দুজন বসে থাকত আর দুজন সেটাকে ঘোরাত। দুজন বসে থাকত ও দুজন ঘোরাত, পালাবদল করে এই খেলা চলত। একে বলা হতো চরকি। পাশের বাড়ির রাজু ভাই ছিল আমার চেয়ে বয়সে বড়। সে এসবের নেতৃত্ব দিত; নতুন নতুন খেলা সে আমদানি করত আর আমাদের নিয়ে সেসব খেলায় মেতে উঠত।
আমাদের গ্রামটা দুই পুলের মাঝখানে। গ্রামের মাঝের রাস্তার পূর্বে কড়িতোলা পুল যা এখন ব্রিজ আর পশ্চিমে বটেত্তল পুল। সেই বটেত্তলে বর্ষার সময়ে কত ছেলেরা সাঁতার কাটতেন, দৌড় ঝাপ দিতেন, ছুল খেলতেন। আমাকে সঙ্গে নিয়ে বাবা সেই পানি দেখাতে নিয়ে যেতেন।
সেরূপ এক বর্ষায় পাশের বাড়ির মেয়ে তৃতীয় শ্রেনির ছাত্রী লাইজু কড়িতোলার পানিতে পড়ে ডুবে মারা যায়। তার পরিবার অনেক কাঁদে এবং আস্তে আস্তে তা শামসুর রাহমানের ‘একটি ফটোগ্রাফ’ কবিতার মতো ফল পায়।
এভাবে-? সময় কাটে, একসময় আমি হয়ে যাই প্রাইমারি স্কুলের ক্লাসের বেস্ট বয়, স্বপ্ন এগোয়!
জীবনের গল্প ফুরোবার নয়-----------।

শৈশব ঝাপসা হলেও মধুর, যৌবন পরিস্কার হলেও নিরস।

শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৫

কীভাবে ট্রেজারি চালান ভেরিফিকেশন করবেন?


বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি সেবার ফি পরিশোধ করতে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে তা পে-ইন করতে হয়। কোন ক্ষেত্রে দূর্ঘটনাবসত ব্যাংকে প্রদত্ত টাকা সময়মত পরিশোধিত না হলে আপনার কাঙ্ক্ষিত সেবাটির ফি অপরিশোধিত থাকার ফলে আপনি উক্ত সেবাটি পেতে সমস্যায় পড়বেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আপনি সেবাটি নাও পেতে পারেন বিশেষ করে এটি যখন চাকুরির পরীক্ষার আবেদন ফি এর মতো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করার মতো কোন ফি হয়ে থাকে। তাই সচেতন ব্যক্তি হিসেবে আপনার পেমেন্ট সম্পর্কে সময়মত নিশ্চিত হোন।

এবার জেনে নিন কীভাবে আপনার পেমেন্ট এর অনলাইন ভেরিফিকেশন করবেন!
ব্যাংকে টাকা পে-ইন করার ৪৮ ঘন্টা বা ২ দিন পর সরকারি ওয়েবসাইট www.cga.gov.bd তে চলে গিয়ে "Online Chalan Verification" অপশনে চলে যান।
এবার আপনার পে-ইন তথ্য হিসেবে ব্যাংক ও শাখার নাম, ব্যাংক কতৃক ইস্যুকৃত চালান নম্বর এবং পে-ইন করার তারিখ দিয়ে সাবমিট করুন।
অল্পক্ষণের মধ্যেই দেখতে পাবেন আপনার ট্রেজারি চালানের ভেরিফিকেশন স্টেটমেন্ট।

ধন্যবাদ, ভালো থাকুন।